যোগাযোগ ব্যবস্থা

যশোর জেলায় রাসত্মাঘাট বা যোগাযোগ ব্যবস্থার উনড়বয়নের সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৫শ শতাব্দীতে ভৈরবের তীওে যশোর জেলার প্রথম সড়কটি নির্মিত হয়। খান জাহান আলী এটি নির্মাণ করেন তার অনুসারীদের নিয়ে সুন্দরবনের দক্ষিণে যাবার পথে। ১৮০২ সালে খ.ঝ.ঙ গধষষবু লেখেন ‘‘জেলায় ২০ মাইল রাসত্মা রয়েছে এবং কোন নদীতেই সেতু নেই’’। মূলত ১৮শ শতাব্দীর প্রথমার্ধে জনৈক কালী প্রসাদ রায় ওরফে কালী পোদ্দার-এর উদ্যোগে জেলায় কয়টি সেতু নির্মিত হয়। তিনি রাসত্মা ও সেতু নির্মাণে সম্পত্তি ও অর্থ অনুদান প্রদান করেন। এর পরে যশোরের রাসত্মাঘাটের উনড়বয়ন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। তারই প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই ড.ড ঐঁহঃবৎ-এর একটি হিসেব পত্রে। তিনি দেখান ১৮৭৫ সাল পর্যমত্ম জেলায় মোট ২৬৪ মাইল দীর্ঘ আঞ্চলিক রাসত্মা তৈরি হয়। তবে যশোর পৌরসভার রাসত্মা উপবিভাগীয় শহরের রাসত্মার মোট পরিমাণ এই হিসেবের বাইরে ছিল। এতে ১৯২৪ সালে জেলার ঢালাই ও ঢালাই বিহীন রাসত্মার মোট মাইলেজ দাঁড়ায় ১৫৪৫-তে, অর্থাৎ সেই সময়েই জেলার রাসত্মার ঘনত্ব ছিল অনেক বেশি। স্বাধীনতাত্তোর কালে জেলার রাসত্মাঘাটের ব্যাপক উনড়বয়ন ঘটে। সড়ক পথে সারাদেশ ও পার্শববর্তী ভারতের সাথে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। এর পরও গ্রামাঞ্চলে রাসত্মাঘাটের দশা ভাল নয়। অতি বর্ষণ বা স্বাভাবিক মৌসুমী বৃষ্টিতেই গ্রামের রাসত্মাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল, স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ, ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়া, কৃষিসহ অন্যান্য পণ্য সরবরাহ এবং বাজারজাত করতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাস্তা-ঘাটের উনড়বয়ন ঘটলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যোগাযোগ সুবিধার মাধ্যমে তাদের জীবনমান উনড়বত করার সুবিধা পাবে। এ ছাড়া শহরাঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে রাসত্মা খোঁড়াখুঁড়ি ও সংস্কার কাজের অভাবে কোন কোন রাসত্মা চলাচলের ক্ষেত্রে অসুবিধার সৃষ্টি হয়।

নৌ-পথ:

বৃহত্তর যশোর জেলার নদী-নালার অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। এখানে মোট ৮৯ নটিক্যাল মাইল নৌপথ আছে এবং এখানকার নৌ পরিবহনের সুপ্রাচীন ইতিহাস রয়েছে। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় পর্যমত্ম যশোরের নদীপথে স্টিমার সার্ভিস চালু ছিল। সময়ের ধারায় নদীগুলোর গভীরতা হ্রাস পাওয়ায় স্টিমার সার্ভিসও ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। মূলত নদীপথগুলোর নাব্যতার উপর সমসত্ম নৌপরিবহন ব্যবস্থা নির্ভরশীল ছিল। বর্তমানে পশ্চিমের নদীগুলো অগভীর হয়ে পড়ায় কেবলমাত্র বর্ষাকালেই ছোট ছোট নৌকায় যাতায়াত সম্ভব। কপোতাক্ষ নদী বাঘা থেকে ঝিকরগাছা পর্যমত্ম অংশে বর্ষায় নাব্য থাকে। তাই ঝিকরগাছা থেকে উত্তরে চৌগাছা পর্যমত্ম ছোট ছোট নৌকা চলাচল করলেও শীতকালে চৌগাছার পরে আর নৌকা চলে না। কেশবপুরের পশ্চিমে ভদ্রা শুকিয়ে গেলেও আলতোপোল থেকে ভাটি এলাকায় সুন্দরবনের ভিতর আকাঁ বাঁকা পথে দেশী বা যন্ত্রচালিত নৌকা সারা বছর ধরে চলাচল করে। এতে হাটবারে খুলনা থেকে ধান বোঝাই নৌকা কেশবপুরে আসে এই নৌপথে। তবে পূর্বের নদীগুলো সারা বছর নাব্য থাকে। মধুমতি নদী নৌপরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জেলার পূর্ব সীমানা দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি নদী মোটামুটিভাবে বছরব্যাপী নাব্য থাকার কারণে সুন্দরবনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রধান নদী পথ। ভৈরব নদীর দক্ষিণে আফ্রাঘাট পর্যমত্ম ৬ ফুট গভীর খোল সম্পনড়ব নৌকা চলাচলে সক্ষম। নবগঙ্গা ও মধুমতি নদীর মধ্যে সংযোগ খাল খনন করায় নবগঙ্গা নদীতে পূর্বাঞ্চলের সাথে নৌপরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্য বেড়েছে।

রেল-পথ:

বৃহত্তর যশোর জেলায় রেলপথের দৈর্ঘ্য ১০৫.০৫ কি.মি. । জেলার সর্বপ্রথম রেল সংযোগ স্থাপিত হয় ১৮৮৪ সালে, অর্থাৎ ব্রিটিশ আমলে একটি ব্যক্তিখাতভিত্তিক সংস্থা ুঞযব ইবহমধষ ঈবহঃৎধষ জধরষধিুচ কলকাতা-যশোর রেল লাইন স্থাপন করে। শুরুতে এই রেলপথ কলকাতা থেকে যশোর হয়ে তালতলাহাট পর্যমত্ম ছিল। এই রুটে কয়টি উলেলখযোগ্য রেলওয়ে স্টেশন হল ঝিকরগাছা, ঘাট, গোদখালি, নাভারন এবং বেনাপোল ইত্যাদি সবগুলো ব্রডগেজ রেল লাইন। বর্তমানের কয়টি উল্লেখযোগ্য রেলওয়ে স্টেশন হল নওয়াপাড়া, চেংগুটিয়া, সিংগিয়া, রূপদিয়া, যশোর, মেহিরুল্লানগর, বড় বাজার, মুবারকগঞ্জ, সুন্দরপুর এবং কোটচাঁদপুর ইত্যাদি। জেলার চারটি উপজেলার মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া রেলপথের দৈর্ঘ্য সারণীতে দেখান হল।


বিমানবন্দর:

জেলা সদরে যশোর সেনানিবাসের পাশে বিমানবন্দরটি অবস্থিত। আকাশপথে যশোর-ঢাকা রুটের গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা খুলনা ও আশপাশের জেলার যাত্রীদের বিমানে ভ্রমণের সুবিধা দিয়েছে এই যশোর বিমানবন্দর। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়ে যশোরে ুযশোর বেঙ্গল এয়ারযোনচ-এর সদর দফতর স্থাপিত হয়। ফলে সেসময় থেকেই শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা গুরুত্ব পেতে শুরু করে। এই ধারাবাহিকতায় একসময় যশোর বিমানবন্দর স্থাপিত হয়।